নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০২৬ সালের শুরুতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাক আমদানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলো থেকে আমদানির পরিমাণ দুই অঙ্কের ঘরে হ্রাস পাওয়ায় এই খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের (Eurostat) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইইউ-র মোট পোশাক আমদানি ১৫.৪৮ শতাংশ কমেছে। গত বছরের তুলনায় মোট আমদানি মূল্য দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭.০৩ বিলিয়ন ইউরোতে। মূলত আমদানির পরিমাণ (কেজি হিসেবে) ৮.৩৬ শতাংশ এবং গড় একক মূল্য (ইউরো/কেজি হিসেবে) ৭.৭৬ শতাংশ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রপ্তানি তলানিতে: বাংলাদেশের পরিস্থিতি
ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইইউ-তে বাংলাদেশের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১.৪৩ বিলিয়ন ইউরোতে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি প্রায় ২৫.২৫ শতাংশ কম।
এই ধসকে ‘দ্বিমুখী আঘাত’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রপ্তানি করা পণ্যের পরিমাণ কমেছে ১৭.৪৯ শতাংশ, যার সাথে পাল্লা দিয়ে পণ্যের একক মূল্যও কমেছে প্রায় ৯.৪১ শতাংশ। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া এবং বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিই এই সঙ্কোচনের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান
কেবল বাংলাদেশ নয়, অন্যান্য শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশগুলোও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে:
- চীন: ২.২২ বিলিয়ন ইউরো রপ্তানি করে শীর্ষে থাকলেও তাদের প্রবৃদ্ধি ৬.৯০ শতাংশ কমেছে। তবে লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, চীনের পণ্যের একক মূল্য ৮.০১ শতাংশ কমলেও আমদানির পরিমাণ বেড়েছে ১.২১ শতাংশ।
- তুরস্ক: ইইউ-তে তুরস্কের রপ্তানি ভয়াবহভাবে কমেছে। দেশিটির রপ্তানি মূল্য ২৯.১২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬১৯.৯৮ মিলিয়ন ইউরোতে।
- অন্যান্য: ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কবলে পড়েছে, যা ইউরোপীয় ফ্যাশন রিটেইল মার্কেটে সামগ্রিক মন্দার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিজিএমইএ-র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানিয়েছেন, ইউরোপের বাজারে গড় একক মূল্য (প্রতি কেজি ১৮.৬৩ ইউরো) কমে যাওয়া প্রমাণ করে যে সেখানে তীব্র প্রতিযোগিতা ও মূল্যের ব্যাপারে ক্রেতাদের সংবেদনশীলতা বেড়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একক মূল্য কমে ১৩.৬৬ ইউরোতে নেমে আসা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মুনাফার ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করছে, কারণ এই হার বৈশ্বিক গড় মূল্যের চেয়েও অনেক কম।
রপ্তানিকারকরা এখন গভীর পর্যবেক্ষণে আছেন যে, জানুয়ারির এই মন্দা কি কেবল সাময়িক কোনো পরিবর্তন, নাকি এটি ইউরোজোনের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সঙ্কটের পূর্বাভাস।