ওয়াশিংটন ডিসি : যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও উচ্চমূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মুখে বড় ধরনের পিছুটান দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইংরেজি নববর্ষের আগের রাতে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গৃহসজ্জার সামগ্রী, কিচেন ক্যাবিনেট এবং ভ্যানিটির ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত আমদানিশুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত আপাতত এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
শুল্কহার যা হতে পারতো
গত সেপ্টেম্বর মাসে ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ ১ জানুয়ারি থেকে কাঠজাত পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এতে:
- কিচেন ক্যাবিনেট ও ভ্যানিটির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশ হওয়ার কথা ছিল।
- কাঠের সোফা ও আর্মচেয়ারের মতো পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ছিল।তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব পণ্যের ওপর বর্তমানের ২৫ শতাংশ শুল্কই বহাল থাকবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কাঠজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক সমতা বজায় রাখার বিষয়ে বাণিজ্য অংশীদারদের সাথে “ফলপ্রসূ আলোচনার” পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মূলত ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং আসবাবপত্রের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমাতে এই নমনীয়তা দেখিয়েছেন ট্রাম্প।
নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গৃহসজ্জার সামগ্রীর দাম গত বছরের তুলনায় ৪.৬ শতাংশ বেড়েছে, যা বছরের শুরুতে ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত আগস্টে আসবাবপত্র শিল্পকে লক্ষ্য করে উচ্চ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে নর্থ ক্যারোলাইনার মতো অঞ্চলগুলোতে উৎপাদন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত কয়েক দশকে সস্তা আমদানির কারণে সেখানে হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। ট্রাম্পের সেই শুল্কের হুমকিতে ‘ওয়েফেয়ার’ (Wayfair) এবং ‘আরএইচ’ (RH)-এর মতো আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে বড় ধস নেমেছিল।
ধারাবাহিক শুল্ক প্রত্যাহার
গত বছর ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প বেশ কিছু পণ্যের শুল্ক কমিয়ে এনেছেন। গত নভেম্বরে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি গরুর মাংস, কফি, কলা এবং ডজনখানেক কৃষিজাত পণ্যের ওপর থেকে অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার করেছিলেন। অনেক অর্থনীতিবিদের মতে, ঢালাও শুল্ক আরোপের ফলে দেশীয় বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমেছে এবং দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।