রংপুর, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ — জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাঁর দল বাংলাদেশকে ইরান, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মডেলে নয়, বরং একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
শুক্রবার রাতে রংপুর জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মূল বক্তব্য ও নির্বাচনি অঙ্গীকার
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন:
- আদর্শিক অবস্থান: তিনি বলেন, “ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়, এটি অন্তরের আবেগের বিষয়। আমরা গর্বের বাংলাদেশ বানাতে চাই, যা কোনো বিশেষ দেশের অনুকরণ নয়।”
- বেকারত্ব দূরীকরণ: “আমরা বেকার ভাতার কারখানা বানাতে চাই না। বেকার ভাতার পরিবর্তে তরুণদের মর্যাদাসম্পন্ন কাজ দিতে চাই। যোগ্যদের যোগ্য স্থানে নিয়োগ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
- অতীতের প্রতিশ্রুতি: ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত কোনো ‘মামলা বাণিজ্য’ বা ‘চাঁদাবাজি’তে জড়ায়নি এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাসী নয়।
উত্তরবঙ্গ ও কৃষি বিপ্লব
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে আমির ডা. শফিকুর রহমান বিশেষ পরিকল্পনা তুলে ধরেন:
- কৃষি রাজধানী: উত্তরবঙ্গকে দেশের ‘কৃষি বিপ্লবের রাজধানী’ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ লক্ষ্যে এগ্রো-ভিত্তিক কলকারখানা এবং বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের আশ্বাস দেন।
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা: তিস্তা নদী নিয়ে তিনি বলেন, “ক্ষমতায় এসে আমরা প্রথমেই তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাত দেব। তিস্তা সজীব হলে পুরো উত্তরাঞ্চল সজীব হবে।”
জোটবদ্ধ নির্বাচনি প্রচারণা
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের সভাপতি এটিএম আজম খান। অনুষ্ঠানে ১০ দলীয় নির্বাচনি জোটের রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বক্তারা ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট চেয়ে পরিবর্তনের ডাক দেন।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।