নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা — ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন সিরিজের অংশ হিসেবে ১০ টাকা মূল্যমানের নতুন ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক । গভর্নর ড. আহসান হাবিব মনসুর স্বাক্ষরিত এই নতুন নোটটি আগামীকাল ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (২০ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) থেকে প্রথমবারের মতো বাজারে পাওয়া যাবে ।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে । প্রাথমিকভাবে এই নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য শাখা অফিস থেকেও ইস্যু করা হবে ।

নোটের নকশা ও বৈশিষ্ট্য
নতুন এই ১০ টাকার নোটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৩ মি.মি. x ৬০ মি.মি. । নোটটিতে গোলাপি রঙের আধিক্য রয়েছে ।
- সম্মুখভাগ: নোটের বাম পাশে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ছবি এবং মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ জাতীয় ফুল শাপলার ছবি মুদ্রিত আছে ।
- পেছনভাগ: নোটের পেছনের অংশে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর ছবি সংযোজন করা হয়েছে ।
- জলছাপ: নোটে জলছাপ হিসেবে রয়েছে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’, উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপে ‘10’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম ।
উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য
জাল নোট প্রতিরোধে এই নোটে বেশ কিছু আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে:
- নিরাপত্তা সুতা: নোটের বাম পাশে ২ মি.মি. চওড়া নিরাপত্তা সুতা রয়েছে যাতে ‘৮১০ দশ টাকা’ লেখা আছে । নোটটি নাড়াচাড়া করলে এই সুতার রং লাল থেকে সবুজ হয়ে যায় ।
- সি-থ্রু ইমেজ: আলোর বিপরীতে ধরলে নোটের ওপরের নির্দিষ্ট প্যাটার্নে ‘১০’ লেখাটি দৃশ্যমান হবে ।
- মাইক্রোপ্রিন্ট: নোটের সম্মুখ ও পেছনভাগে অত্যন্ত ক্ষুদ্র অক্ষরে ‘BANGLADESH BANK’ লেখা মুদ্রিত আছে ।
প্রচলিত নোটের ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন সিরিজের এই নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সকল কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রাও যথারীতি চালু থাকবে । এছাড়া মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ ‘নমুনা নোট’ (Specimen Note) মুদ্রণ করা হয়েছে, যা মিরপুরের টাকা জাদুঘর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যায়ক্রমে ২, ৫, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ এবং ১০০০ টাকা মূল্যমানের সকল নোটেরই নতুন ডিজাইন ও সিরিজের নোট মুদ্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে । ইতোমধ্যেই বেশ কিছু উচ্চ মূল্যমানের নোট বাজারে ছাড়া হয়েছে ।