শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ<gwmw style="display:none;"></gwmw> আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রম ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আদালতের আদেশে বিএফআইইউর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪% পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী সৌদি আরব পুরনো মালিকদের হাতে ফিরল আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> গভর্নরের সাথে বিটিএমএ-র বৈঠক: বস্ত্র খাতের সংকট মোকাবিলায় নীতিগত সহায়তার দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধির সভাপতিত্বে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচি বাড়াচ্ছে

ঢাকা, ১৮ আগস্ট – খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ সরকার আগামী অর্থবছরে ৩৬.৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রির (ওএমএস) জন্য গমের বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আগে যেখানে ৫০ লাখ পরিবার এই সুবিধা পেত, এখন থেকে ৫৫ লাখ পরিবারকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকা কেজি দরে দেওয়া হবে। এই চাল আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে বিতরণ করা হবে।

ওএমএস কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)-এর সর্বশেষ অর্থনৈতিক আপডেট অনুযায়ী, বাংলাদেশে চালের মূল্য খাদ্য ও সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। জিইডি’র প্রতিবেদন বলছে, খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিতে চালের অবদান মে মাসে ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে জুলাই মাসে ৫১.৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মোটা ও মাঝারি চালের দাম বৃদ্ধির কারণে যথাক্রমে ২৪ ও ১৮.৩৯ শতাংশ অবদান রেখেছে।

খাদ্য অধিদপ্তর থেকে এক নোটে বলা হয়েছে, ওএমএস কর্মসূচিতে চাল ও গমের বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। কর্মকর্তারা বলেন, ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমে কম আয়ের ভোক্তাদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে চাল ও গম সরবরাহ করা হয়, যা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে জরুরি।

খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে খাদ্য অধিদপ্তর এই কর্মসূচিগুলো পরিচালনা করে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • দুর্বল গোষ্ঠী খাওয়ানো (VGF) এবং দুর্বল গোষ্ঠী উন্নয়ন (VGD): এই কর্মসূচির অধীনে লক্ষ লক্ষ দরিদ্র পরিবারকে, বিশেষ করে কৃষি সংকটের সময় এবং ধর্মীয় উৎসবের আগে চাল ও গম সরবরাহ করা হয়।
  • কাজের বিনিময়ে খাদ্য (FFW) এবং টেস্ট রিলিফ (TR): এই কর্মসূচিগুলোতে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প, যেমন সড়ক ও বাঁধ মেরামত এবং সেচ খাল নির্মাণে শ্রমের বিনিময়ে খাদ্যশস্য দেওয়া হয়, যা কর্মসংস্থান তৈরি করে।
  • খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস): দেশব্যাপী ট্রাক এবং ডিলারের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে চাল ও আটা বিক্রি করা হয়, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
  • দুর্যোগ ত্রাণ: বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরাসরি খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়।

এই কর্মসূচিগুলো বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর মতো উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় পরিচালিত হয়, যারা সক্ষমতা বৃদ্ধি, লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় সরকারকে সহায়তা করে। একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের খাদ্যশস্যের মজুদ সন্তোষজনক থাকায় তারা আশা করছেন যে বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।