বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শঙ্কার মেঘ: আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপর্যয়<gwmw style="display:none;"></gwmw> চীনের প্রতিরক্ষা বাজেটে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রস্তাব: টানা ১১ বছর একক অঙ্কের প্রবৃদ্ধি বজায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১১ দফা নির্দেশনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার<gwmw style="display:none;"></gwmw> বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা, বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: আলোকসজ্জা পরিহার ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানোর নির্দেশ সরকারের সাদিক আহমেদের পদত্যাগ: নীতি সুদহার কমানোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান; ৪,১৭০ জনের কর্মসংস্থান<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw>

ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত করতে আইনি সংস্কার জরুরি: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের ব্যাংকিং খাতকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করতে ব্যাপক আইনি সংস্কারের মাধ্যমে একে সুরক্ষিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ: ব্যাংকিং খাতের প্রভাব’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষা গভর্নর জানান, অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা একমাত্র পথ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের একটি প্রস্তাব চার মাস আগেই সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এই সংশোধনীটি এখনো অনুমোদিত হয়নি।” রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দ্রুত এই আইনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

এলডিসি উত্তরণ ও সম্মান এলডিসি থেকে উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার কিছু ব্যবসায়ী নেতার দাবির বিপরীতে কঠোর অবস্থান নেন ড. মনসুর। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান বা আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। জিডিপিসহ প্রতিটি সূচকে আমরা অনেক এগিয়ে। এলডিসি গ্রুপে থাকা এখন আমাদের জন্য আর সম্মানের বিষয় নয়।” দেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত মালয়েশিয়া বা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়া।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সমালোচনা এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের তীব্র সমালোচনা করে গভর্নর বলেন, “অতীতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো ‘পুতুলের’ মতো আচরণ করেছে। যখন ৬-৯ শতাংশ সুদহারের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তখন তারা তালি দিয়েছে। দেশ থেকে যখন হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে, তখন তারা চুপ ছিল।” তিনি সংগঠনগুলোকে আরও পেশাদার হওয়ার আহ্বান জানান।

সুদহার ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ অনুষ্ঠানে আইসিসিবি সহ-সভাপতি এ কে আজাদ সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, উচ্চ সুদহারের কারণে গত কয়েক মাসে ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। এর জবাবে গভর্নর বলেন, ২০ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে পাচার হওয়া এবং খেলাপি ঋণের কারণেই সুদহার বর্তমানে কিছুটা চড়া। তবে সুশাসন ফিরলে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলে সুদহার স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।