বুধবার ৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ট্যাক্স হ্যাভেনের দিন শেষ, বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল বদলাচ্ছে: আইএমএফ আজকের ডিজিটালের ব্যবধান যেন আগামী দিনের এআই ডিভাইডে পরিণত না হয়: ইস্তাম্বুলে আইসিটি মন্ত্রী জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ধরতে অনুমোদন সহজ করার উদ্যোগ, দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে মূল ভিত্তি ‘বিশ্বাস’: তানভীর শাহরিয়ার গনি পরিকল্পিত নগরায়ণে জেলা ও সিটি করপোরেশনে নতুন মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তীব্র সংকটের মাঝেই বাড়ল এলপিজির দাম, খুচরা বাজারে অস্থিরতা জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার: রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি

বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে ১৪ ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তারল্য বজায় রাখা এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ২২ কোটি ৩৫ লাখ (২২৩.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই লেনদেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ডলারের বিনিময় হার ও ‘কাট-অফ’ রেট নির্ধারণ করেছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

রেকর্ড পরিমাণ ডলার সংগ্রহ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত) বাজার থেকে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৫৫ বিলিয়ন ডলার (৩৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার)।

নতুন বছরের শুরুতেই ডলার কেনার হার বেশ বেড়েছে। শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৪১১ মিলিয়ন ডলার বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে।

কেন ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, “আজ মঙ্গলবার ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ২২৩.৫০ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়েছে।”

আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ উদ্বৃত্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ‘আগ্রাসী’ ডলার ক্রয়ের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • টাকার মান ধরে রাখা: বাজারে ডলারের সরবরাহ বেশি হলে টাকার মান খুব বেশি বেড়ে (Over-appreciate) যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সক্ষমতা কমে যেতে পারে। সেটি রোধ করতেই এই পদক্ষেপ।
  • রিজার্ভ শক্তিশালী করা: গত কয়েক বছর ধরে চাপের মুখে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরায় সমৃদ্ধ করতে এই ক্রয় প্রক্রিয়া সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
  • রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের সুরক্ষা: ডলারের দর স্থিতিশীল থাকলে প্রবাসী ও রপ্তানিকারকরা তাদের আয়ের বিপরীতে একটি ন্যায্য ও স্থিতিশীল মূল্য নিশ্চিত করতে পারেন।

এই কৌশলটি গত কয়েক বছরের তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত। বিগত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত স্থানীয় মুদ্রার মান ধরে রাখতে নিজের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে আসছিল। এখন সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানোর পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ব্যাংক।