শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের আধুনিকায়নে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনর্গঠনে নীতিগত সহায়তার মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবহন খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একীভূত নীতিমালা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট: দোকান মালিক সমিতি পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিজিএমইএ ও আইভি ডিকার্ব-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর তেল-গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়: নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের সৌদি তেলের জাহাজ বন্দরে: পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ভুক্তভোগী আমানতকারীদের মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন প্রতিবাদ মূল শিরোনাম: দেশে ফের বাড়ল মূল্যস্ফীতি, এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশে

বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে ১৪ ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তারল্য বজায় রাখা এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ২২ কোটি ৩৫ লাখ (২২৩.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই লেনদেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ডলারের বিনিময় হার ও ‘কাট-অফ’ রেট নির্ধারণ করেছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা

রেকর্ড পরিমাণ ডলার সংগ্রহ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত) বাজার থেকে মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৫৫ বিলিয়ন ডলার (৩৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার)।

নতুন বছরের শুরুতেই ডলার কেনার হার বেশ বেড়েছে। শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ৪১১ মিলিয়ন ডলার বাজার থেকে সংগ্রহ করেছে।

কেন ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, “আজ মঙ্গলবার ১৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ২২৩.৫০ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়েছে।”

আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ উদ্বৃত্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ‘আগ্রাসী’ ডলার ক্রয়ের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • টাকার মান ধরে রাখা: বাজারে ডলারের সরবরাহ বেশি হলে টাকার মান খুব বেশি বেড়ে (Over-appreciate) যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সক্ষমতা কমে যেতে পারে। সেটি রোধ করতেই এই পদক্ষেপ।
  • রিজার্ভ শক্তিশালী করা: গত কয়েক বছর ধরে চাপের মুখে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরায় সমৃদ্ধ করতে এই ক্রয় প্রক্রিয়া সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
  • রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের সুরক্ষা: ডলারের দর স্থিতিশীল থাকলে প্রবাসী ও রপ্তানিকারকরা তাদের আয়ের বিপরীতে একটি ন্যায্য ও স্থিতিশীল মূল্য নিশ্চিত করতে পারেন।

এই কৌশলটি গত কয়েক বছরের তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত। বিগত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত স্থানীয় মুদ্রার মান ধরে রাখতে নিজের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে আসছিল। এখন সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানোর পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ব্যাংক।