বৃহস্পতিবার ৭ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের আধুনিকায়নে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনর্গঠনে নীতিগত সহায়তার মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবহন খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একীভূত নীতিমালা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট: দোকান মালিক সমিতি পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিজিএমইএ ও আইভি ডিকার্ব-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর তেল-গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়: নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের সৌদি তেলের জাহাজ বন্দরে: পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ভুক্তভোগী আমানতকারীদের মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন প্রতিবাদ মূল শিরোনাম: দেশে ফের বাড়ল মূল্যস্ফীতি, এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশে

পরিবেশবান্ধব গাড়িতে উৎসাহ দিতে ঋণের সীমা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক; ইভি ও হাইব্রিড কেনায় মিলবে ৮০ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে এবং গ্রাহকদের আর্থিক সুবিধা দিতে ব্যক্তিগত ও গাড়ি ঋণের সীমা দ্বিগুণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বৈদ্যুতিক (ইভি) ও হাইব্রিড গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ পাবেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়েছে।

ব্যক্তিগত ঋণের সীমা বৃদ্ধি সার্কুলারে জানানো হয়, ভোক্তা ঋণের আওতায় ব্যক্তিগত ঋণের (পার্সোনাল লোন) সীমা ২০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে কোনো ব্যক্তি গ্যারান্টি বা জামানতের ভিত্তিতে ব্যাংক থেকে আগের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।

অটো লোনে বিশেষ সুবিধা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রচলিত জ্বালানি চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে অটো লোনের সর্বোচ্চ সীমা ৬০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পরিবেশের কথা মাথায় রেখে বৈদ্যুতিক এবং হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে এই সীমা বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

একইসঙ্গে ঋণ ও নিজস্ব বিনিয়োগের অনুপাতেও (Debt-Equity Ratio) বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে ৬০:৪০ অনুপাতে ঋণ দেওয়া যাবে (অর্থাৎ গাড়ির দামের ৬০ শতাংশ ব্যাংক দেবে এবং ৪০ শতাংশ গ্রাহককে দিতে হবে)। অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে এই অনুপাত বাড়িয়ে ৮০:২০ করা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহক গাড়ির মোট দামের ৮০ শতাংশই ব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন।

নির্ভরশীলদের ঋণও অন্তর্ভুক্ত হবে সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির ওপর ঋণের মোট ‘এক্সপোজার’ বা দায়ের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের নেওয়া অটো লোনও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মূলত ঋণের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, তার সাথে তাল মেলাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও পেশাজীবীদের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব গাড়ি কেনার আগ্রহ বাড়বে এবং অটোমোবাইল খাতে নতুন গতির সঞ্চার হবে।