মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিদেশি বিনিয়োগের মুনাফা ও মূলধন ফেরতে কড়াকড়ি শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> অনিয়ম রোধে ৪ বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ প্রশমনের আহ্বান চীনের বিশেষ দূতের কক্সবাজার সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করার উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ঋণ নয় মালিকানানির্ভর শিল্পায়ন চায় সরকার: অর্থ উপদেষ্টা পাঁচ বছরে কার্ডে লেনদেন বেড়েছে ১৪৩ শতাংশ: বাংলাদেশ ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> প্রচলিত রীতি ভাঙল বাংলাদেশ ব্যাংক: ঈদে মিলবে না বিশেষ নতুন নোট<gwmw style="display:none;"></gwmw> দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি ও শ্রম সংস্কার নিয়ে বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw>

নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, কারণ হিসেবে দুর্বল সম্পদ গুণমানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এই প্রক্রিয়াটির জন্য সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, “আমরা শুধুমাত্র আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। তাদের টাকা ফেরত নিশ্চিত করাই হবে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”দেশের আর্থিক খাতের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন খাতটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যার মধ্যে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার অন্যতম।

এই সংকটের কারণে বেশ কিছু দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এটি এনবিএফআই খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং গভীর অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

পলিসি এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, যদিও এই উদ্যোগটি আর্থিক খাতের জন্য একটি “বড় ধাক্কা”, তবে বিকল্প সীমিত। তিনি বলেন, “সম্পদের গুণগত মান বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।” তার মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সংস্কারের অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষে এনবিএফআই খাতের মোট খেলাপি ঋণের ৭৩.৫ শতাংশ মাত্র ১২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে কেন্দ্রীভূত ছিল। প্রাথমিকভাবে ২০টি প্রতিষ্ঠানকে “রেড ক্যাটাগরি” তে রাখা হয়েছিল। এ বছরের জানুয়ারিতে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়ার পর, নয়টির উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলোকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিলুপ্তির জন্য চিহ্নিত নয়টি প্রতিষ্ঠান হলো: ফার্স্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আবিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং, এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এই প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে খেলাপি ঋণ এবং আর্থিক অনিয়মের কারণে ভুগছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে এনবিএফআই খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫,০৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশ, বা অর্ধেকের বেশি খেলাপি ঋণ এই নয়টি প্রতিষ্ঠানের।বিশ্লেষকরা এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে অভিহিত করছেন। তাদের বিশ্বাস, এই নয়টি এনবিএফআই বিলুপ্তির মাধ্যমে শুধু দুর্দশাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর পতনই নয়, বরং পুরো খাতের একটি বড় ধরনের পুনর্গঠনের সূচনা হতে পারে।