সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
পুঁজিবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য: বিএসইসি কমিশনার মধ্য অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৩.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, অর্জন ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ: ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ ছাড়িয়েছে ১৪,৫১৯ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসার লাইসেন্সে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিত সার্কুলার জারি গবেষণা, প্রযুক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান: এইউএসটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শুরু ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ও আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ, মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষায় জোর দিতে ঢাকায় তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু ১৭ অক্টোবর নতুন সংসদ সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণে সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইউএনডিপি আজারবাইজানে সিইসিএ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় সৌরশক্তি ও এলএনজিতে আমূল পরিবর্তনের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

প্রতি বছর গ্যাসের উৎপাদন ১০০ এমএমসিএফ হ্রাস পাওয়ায় জরুরি পদক্ষেপের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশে আশঙ্কাজনক হারে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় শিল্প ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সৌরশক্তি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার (৯ মে) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এই তাগিদ দেন।

‘বাংলাদেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভাটি বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতি (বিএসআরইএ) এবং গ্রিনটেক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, একসময় বাংলাদেশের শিল্প প্রবৃদ্ধির প্রধান হাতিয়ার ছিল সস্তা শ্রম ও সুলভ গ্যাস, কিন্তু সেই যুগ এখন শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন প্রতি বছর ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) হারে কমছে, যা মোকাবিলায় আমদানিকৃত এলএনজি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং পিপিআরসি-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রথাগত চিন্তার বাইরে এসে উদ্ভাবনী ধারণা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বিশেষভাবে স্থলভিত্তিক এফএসআরইউ (ভাসমান স্টোরেজ এবং রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) স্থাপন এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জ্বালানি খাতে সমন্বয়ের অভাবকে একটি বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে একটি ‘মনিটরিং সেল’ গঠনের প্রস্তাব দেন, যা কার্যকরভাবে জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করবে।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ উল্লেখ করেন যে, ২০২২ সাল থেকে সস্তা জ্বালানির সুবিধা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, শিল্প পরিচালনা ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জ্বালানিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ী বা সরকার—কেউই চায় না শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাক।” বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে একটি টেকসই পথ খুঁজে পেতে তিনি সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত প্রস্তাব উপস্থাপনের আহ্বান জানান।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকসের লিড অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) সভাপতি ডেভিড হাসানাত, বিজিএমইএ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এবং বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদসহ আরও অনেকে।

বক্তারা সম্মিলিতভাবে একমত হন যে, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড রক্ষা এবং টেকসই জ্বালানি সমাধান বাস্তবায়নে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক পদ্ধতি অপরিহার্য।

আরও পড়ুন