নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউনেসকাপ) ৮২তম অধিবেশনে টেকসই বায়োইকোনমি বা জৈব-অর্থনীতি বিষয়ক একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব পাসের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এই অধিবেশনটি সমাপ্ত হয়।
‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বায়োইকোনমির দিকে উত্তরণ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এই প্রস্তাবটি বাংলাদেশ উত্থাপন করলে তা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এই অর্জন আঞ্চলিক উন্নয়ন এজেন্ডা নির্ধারণে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উদ্ভাবন-নির্ভর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য গৃহীত এই প্রস্তাবটি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উদ্ভাবন-নির্ভর জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সার্কুলার ইকোনমি (চক্রাকার অর্থনীতি), সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। অধিবেশনে তিনি বলেন, “বায়োইকোনমি কেবল একটি উদীয়মান ধারণা নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি কার্যকর পথ।”
আঞ্চলিক ঐক্য বাংলাদেশের এই প্রস্তাবটিতে ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, মঙ্গোলিয়া, আর্মেনিয়া এবং কাজাখস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ কো-স্পনসর হিসেবে সমর্থন জানিয়েছে। এই শক্তিশালী আঞ্চলিক ঐকমত্য টেকসই অর্থনৈতিক মডেলের দিকে এশীয় দেশগুলোর সম্মিলিত যাত্রার ইঙ্গিত দেয়।
প্রস্তাবনাটিতে জ্ঞান আদান-প্রদান, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং টেকসই বায়োইকোনমি ভ্যালু চেইন তৈরির ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাকু-ব্যাংকক ঘোষণা অধিবেশনে বায়োইকোনমি ফ্রেমওয়ার্কের পাশাপাশি ‘সকল বয়সের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে সামাজিক উন্নয়ন জোরদারকরণ’ শীর্ষক ‘বাকু-ব্যাংকক ঘোষণা’ও গৃহীত হয়েছে। এর মাধ্যমে এশীয় অঞ্চলে সকল স্তরের মানুষের জন্য টেকসই সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইউনেসকাপের এই অধিবেশনে বাংলাদেশের এই কূটনৈতিক সাফল্য দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে নতুন অংশীদারিত্ব এবং বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।