বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
ইইউতে কমেছে পোশাক আমদানি, তবে জুন ও জুলাইয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির ওভারডিউ সময়সীমা ২৭০ দিনে মেলাল বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের ৪৩তম এজিএম অনুষ্ঠিত এমডিদের কর্মমূল্যায়নে ১০০ নম্বরের ফ্রেমওয়ার্ক জারি করলো বাংলাদেশ ব্যাংক বিবিসিসিআই’র ডিরেক্টর নির্বাচিত হলেন জহিরুল ইসলাম, আজীবন সদস্য পদ পেলেন কিবরিয়া ও মোর্তুজা<gwmw style="display:none;"></gwmw> দ্বিতীয় প্রান্তিকে সাব-ব্রাঞ্চে আমানত বেড়ে ৮৪,২৬৩ কোটি টাকা, ঋণ বিতরণ কমেছে ৭.৭ শতাংশ<gwmw style="display:none;"></gwmw> US cotton warehouse to launch in Chattogram in mid-November to boost bilateral trade তা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তীব্র আপত্তি<gwmw style="display:none;"></gwmw> রাজধানীতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ১১তম ‘বাপা ফুডপ্রো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ২০২৪’

‘বৈসাবি’উৎসব বাঙালী পাহাড়িদের মধ্যে কিভাবে এলো?

ঢাকা, এপ্রিল ১২:- বৈসাবি উৎসব কোনো একক গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে হঠাৎ করে আসেনি। এটি মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি প্রধান পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর – ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ এবং চাকমাদের ‘বিজু’ – এই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত উৎসব।

অতীতে এই তিনটি জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র ঐতিহ্য ও রীতি-নীতি অনুযায়ী নববর্ষ উদযাপন করত। সময়ের সাথে সাথে এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগের ফলে এই উৎসবগুলো একে অপরের কাছাকাছি আসতে শুরু করে। বিশেষ করে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই জাতিগোষ্ঠীগুলো বুঝতে পারে যে তাদের উৎসবের মূল spirit একই – পুরাতন বছরকে বিদায় জানানো এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানো।

পরবর্তীতে, সম্ভবত গত শতাব্দীর শেষ দিকে (আনুমানিক ১৯৮০-এর দশকে), এই তিনটি উৎসবকে সম্মিলিতভাবে “বৈসাবি” নামে উদযাপন করার একটি ধারণা জন্ম নেয়। এই নামটি তিনটি উৎসবের প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে তৈরি করা হয়: বৈসু (ত্রিপুরা), সাংগ্রাই (মারমা), এবং বিজু (চাকমা)।

এই একত্রীকরণের প্রধান কারণগুলো ছিল:

  • সাংস্কৃতিক ঐক্য সংহতি: পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য ও ভাতৃত্ববোধ জোরদার করা।
  • বৃহত্তর উদযাপন: সম্মিলিতভাবে উদযাপনের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ও তাৎপর্য বৃদ্ধি করা এবং বৃহত্তর পরিসরে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরা।
  • পরিচয় প্রতিষ্ঠা: একটি সম্মিলিত উৎসবের মাধ্যমে নিজেদের স্বতন্ত্র পাহাড়ি জাতিসত্তার পরিচয়কে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা।

সুতরাং, “বৈসাবি” উৎসব কোনো একক গোষ্ঠী থেকে আসেনি, বরং এটি তিনটি প্রধান পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উদযাপনের সংস্কৃতির একটি সমন্বিত রূপ, যা সময়ের সাথে সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্যের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। এটি এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহত্তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

অনেকের মনে করেন, পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রয়োজনেই বৈসাবি শব্দটি এসেছে।

জানা গেছে, পাহাড়ের বর্ষবিদায় ও বরণ উপলক্ষে ১৯৮৭ সালে রাঙামাটি কলেজে একটি দেয়ালিকা প্রকাশিত হয়। পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উৎসবের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে ‘বৈসাবি’ নামকরণ করা হয় দেয়ালিকাটির। ওই নামটি পরে পাহাড়ি বিভিন্ন সংগঠনের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সামরিক শাসনের সেই সময়ে কোনো সংগঠনের নামে উৎসব, শোভাযাত্রা করা সম্ভব ছিল না। এ জন্য পাহাড়ের সব জাতিগোষ্ঠীকে একই সাংস্কৃতিক সংহতির গাঁথুনিতে নিয়ে আসার জন্য ‘বৈসাবি’ নামে প্ল্যাটফরম করা হয়েছিল।